বিবিধযাকাতসমসাময়িক মাসআলা

অংশীদারী সম্পদের যাকাতের বিবরণ

Print Friendly, PDF & Email

বর্তমান অর্থনীতিতে একক সম্পদের তুলনায় অংশীদারী সম্পদ অনেক বেশী। কারণ বর্তমানে অধিকাংশ মিল, কারখানা, বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সম্পদ অর্জিত হয়ে থাকে অংশীদারী সম্পদের মাধ্যমে। তাই আমাদের উচিত অংশীদারী সম্পদের যাকাত কি হবে তা জেনে নেয়া। কারণ ইসলাম যাকাতকে ফরয করেছে। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন-
واقيموا الصلاة واتوا الزكاة.
তোমরা নামায কায়েম কর এবং যাকাত প্রদান কর।
এই জন্য একক সম্পদের সাথে অংশীদারী সম্পদের যাকাত কিরূপ হবে, এই ব্যাপারে জ্ঞান রাখা অনস্বীকার্য। তাই জেনে নিন ফিকহের আলোকে অংশীদারী সম্পদের যাকাত।

অংশীদারী সম্পদের যাকাত :
অংশীদারী সম্পদের যাকাতের ক্ষেত্রে প্রত্যেক মালিকের কি পরিমাণ সম্পত্তি পড়ে তা হিসাব করে দেখতে হবে। যাদের অংশ নিসাব পরিমাণ থেকে কম তাদের অংশে যাকাত ফরয হবে না। যাদের অংশ নিসাব পরিমাণ হবে তাদের উপর যাকাত ফরয হবে। অংশীদারী সম্পদের ক্ষেত্রে মোট সম্পত্তি হতে এক সাথে যাকাত উসুল করা যেতে পারে। তারপর যে পরিমাণ যাকাত উসুল করা হলো মালিকগণ পারস্পরিক অংশ অনুপাতে তাদের নিজেদের দায়রূপে আদায় প্রদান করে নিবেন।
এই বিষয় الموسوعة الفقهية الكويتية এর ইবারত হলো-
الَّذِي يُكَلَّفُ بِالزَّكَاةِ هُوَ الشَّخْصُ الْمُسْلِمُ بِالنِّسْبَةِ لِمَالِهِ ، فَإِنْ كَانَ مَا يَمْلِكُهُ نِصَابًا وَحَال عَلَيْهِ الْحَوْل وَتَمَّتِ الشُّرُوطُ فَفِيهِ الزَّكَاةُ ، فَإِنْ كَانَ الْمَال شَرِكَةً بَيْنَهُ وَبَيْنَ غَيْرِهِ ، وَكَانَ الْمَال نِصَابًا فَأَكْثَرَ فَلاَ زَكَاةَ عَلَى أَحَدٍ مِنَ الشُّرَكَاءِ عِنْدَ الْجُمْهُورِ ، وَهُوَ قَوْلٌ عِنْدَ الشَّافِعِيَّةِ حَتَّى يَكُونَ نَصِيبُهُ نِصَابًا ، وَلاَ يُسْتَثْنَى مِنْ ذَلِكَ عِنْدَ الْحَنَفِيَّةِ شَيْءٌ.
এর দ্বারা বুঝা যায় যখন কোন মুসলিম ব্যক্তি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে এবং পূর্ণ এক বছর হবে তখন তার উপর যাকাত ফরয হবে। আর যদি দুইজনের মধ্যে শরীক বা অংশীদার থাকে এমন সম্পদ নিসাব পরিমাণ হয়ে অথবা নিসাবের চেয়ে বেশি হলেও যদি আলাদা আলাদা ভাবে ব্যক্তি সম্পদের নিসাব পূর্ণ না হয়, তাহলে যাকাত আবশ্যই হবে না। জুমহুর আলেমদের মত এটি। তবে সম্পদ ভিন্ন হলে আলেমদের মতে ইখতিলাফ রয়েছে, তবে আহনাফদের মতে সকল সম্পদ একই রকম ভাবে যাকাত আবশ্যক হবে।

অংশীদারী প্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানা এবং সরকারী শিল্প ব্যবসা কোম্পানীর মালের যাকাত :
প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা এবং সরকারী শিল্প ব্যবসা বাণিজ্য ইত্যাদি যার মধ্যে ব্যক্তি মালিকানার কোন অংশীদারিত্ব নেই এতে যাকাত ফরয হবে না। তবে যে সকল সরকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান ইত্যাদিতে ব্যক্তি মালিকানার অংশীদারিত্ব থাকে তাতে শুধু ব্যক্তি মালিকদের অংশের উপর যাকাত ফরয হবে। সরকারী অংশের উপর যাকাত ফরয হবে না। ব্যক্তি মালিকগণ তাদের অংশের যাকাত একত্রে আদায় করতে পারেন অথবা নিজ নিজ অংশের যাকাত পৃথক পৃথকভাবেও আদায় করা যায়।
তেমনিভাবে ব্যক্তি মালিকানাধীন কোম্পানীসমূহ তা একক ব্যক্তি মালিকানাধীন বা যৌথ মালিকানাধীন হোক এতে যাকাত ওয়াজিব হবে আদায়ের ক্ষেত্রে অনুরূপ করতে পারে।

শেয়ারের যাকাত :
শেয়ার কোম্পানিতে থাকা বিদ্যমান মালিকানার প্রতিনিধিত্ব করে। তাই কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে শেয়ার ক্রয় করে যে, আগামীতে সেটি বিক্রি করে লাভ অর্জন করবে, সে কেমন যেন ক্যাপিটাল গেইন করতে থাকে। বছর শেষে শেয়ারের লাভ অর্জন আসল উদ্দেশ্য থাকে না, তাহলে এ ক্ষেত্রে এই শেয়ারের মার্কেট মূল্য অনুযায়ী তার উপর যাকাত ওয়াজিব হবে।
তবে শেয়ার ক্রয়ের সময় যদি ক্যাপিটাল গেইন করার ইচ্ছা না থাকে, বরং বছর শেষে লাভ অর্জন করা আসল উদ্দেশ্য থাকে। তবে সেই শব্দে এমনটি ইচ্ছে ছিল যে এই শেয়ার মার্কেট মূল্যের এই অংশের উপর যাকাত ওয়াজিব হবে। যা যাকাতযোগ্য সামগ্রীর বিনিময়ে হবে।
একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি বুঝবো। যেমন শেয়ার মার্কেট ভ্যালু ১০০ টাকা। যার ৬০ টাকা বিল্ডিং এবং মেশিন ইত্যাদির বিনিময়ে রয়েছে। আর অবশিষ্ট ৪০ টাকা কাঁচামাল, প্রস্তুতকৃত পণ্য এবং নগদে রয়েছে, তাহলে এ ক্ষেত্রে এই শেয়ারের ৪০ টাকা যেহেতু যাকাতযোগ্য সম্পদের বিনিময় রয়েছে। এ কারণে ৪০ টাকার ২.৫% টাকা যাকাত হিসাবে আদায় করতে হবে। আর অবশিষ্ট ৬০ টাকার উপর যাকাত ওয়াজিব হবে না।

যাকাতের যোগ্য নয়
বিল্ডিং বাবদ মেশিদ বাবদ মোট
৩০/= ৩০/= ৬০/=
যাকাতযোগ্য সম্পদ
প্রস্তুতকৃত পণ্য কাঁচামাল বাদ নগদ অর্থ মোট
১৫/= ১৫/= ১০/= ৪০/=

এক্ষেত্রে ব্যক্তিরা ইচ্ছা করলে তাদের যাকাত যৌথভাবে দিতে পারে আবার ইচ্ছা করলে লাভ অনুযায়ী আলাদা আলাদা দিতে পারে।

বন্ডের যাকাত :
সুদভিত্তিক অর্থনীতি নির্ভর ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিট, সঞ্চয়পত্র, প্রাইজ বন্ড এবং অনৈসলামী বীমা কোম্পানীর শেয়ার বাবদ প্রাপ্ত লাভ সুদ হিসাবে গণ্য; বিধায় সরাসরি হারাম ও অবৈধ হওয়ার কারণে লাভের সম্পূর্ণ অংশ সাওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরীব-মিসকীনদের দান করে অথবা জনহিতকর কাজ করে দায়মুক্ত হওয়া আবশ্যক। তবে এসকল বন্ডের আসল ও মূলধনের উপর যথানিয়মে যাকাত ফরয হবে।
অন্যের নামে জমাকৃত সম্পদের যাকাত :
রাষ্ট্রীয় কর থেকে বাঁচার অংশীদারী সম্পদের যাকাত

বর্তমান অর্থনীতিতে একক সম্পদের তুলনায় অংশীদারী সম্পদ অনেক বেশী। কারণ বর্তমানে অধিকাংশ মিল, কারখানা, বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সম্পদ অর্জিত হয়ে থাকে অংশীদারী সম্পদের মাধ্যমে। তাই আমাদের উচিত অংশীদারী সম্পদের যাকাত কি হবে তা জেনে নেয়া। কারণ ইসলাম যাকাতকে ফরয করেছে। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন-
واقيموا الصلاة واتوا الزكاة.
তোমরা নামায কায়েম কর এবং যাকাত প্রদান কর।
এই জন্য একক সম্পদের সাথে অংশীদারী সম্পদের যাকাত কিরূপ হবে, এই ব্যাপারে জ্ঞান রাখা অনস্বীকার্য। তাই জেনে নিন ফিকহের আলোকে অংশীদারী সম্পদের যাকাত।

অংশীদারী সম্পদের যাকাত :
অংশীদারী সম্পদের যাকাতের ক্ষেত্রে প্রত্যেক মালিকের কি পরিমাণ সম্পত্তি পড়ে তা হিসাব করে দেখতে হবে। যাদের অংশ নিসাব পরিমাণ থেকে কম তাদের অংশে যাকাত ফরয হবে না। যাদের অংশ নিসাব পরিমাণ হবে তাদের উপর যাকাত ফরয হবে। অংশীদারী সম্পদের ক্ষেত্রে মোট সম্পত্তি হতে এক সাথে যাকাত উসুল করা যেতে পারে। তারপর যে পরিমাণ যাকাত উসুল করা হলো মালিকগণ পারস্পরিক অংশ অনুপাতে তাদের নিজেদের দায়রূপে আদায় প্রদান করে নিবেন।
এই বিষয় الموسوعة الفقهية الكويتية এর ইবারত হলো-
الَّذِي يُكَلَّفُ بِالزَّكَاةِ هُوَ الشَّخْصُ الْمُسْلِمُ بِالنِّسْبَةِ لِمَالِهِ ، فَإِنْ كَانَ مَا يَمْلِكُهُ نِصَابًا وَحَال عَلَيْهِ الْحَوْل وَتَمَّتِ الشُّرُوطُ فَفِيهِ الزَّكَاةُ ، فَإِنْ كَانَ الْمَال شَرِكَةً بَيْنَهُ وَبَيْنَ غَيْرِهِ ، وَكَانَ الْمَال نِصَابًا فَأَكْثَرَ فَلاَ زَكَاةَ عَلَى أَحَدٍ مِنَ الشُّرَكَاءِ عِنْدَ الْجُمْهُورِ ، وَهُوَ قَوْلٌ عِنْدَ الشَّافِعِيَّةِ حَتَّى يَكُونَ نَصِيبُهُ نِصَابًا ، وَلاَ يُسْتَثْنَى مِنْ ذَلِكَ عِنْدَ الْحَنَفِيَّةِ شَيْءٌ.
এর দ্বারা বুঝা যায় যখন কোন মুসলিম ব্যক্তি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে এবং পূর্ণ এক বছর হবে তখন তার উপর যাকাত ফরয হবে। আর যদি দুইজনের মধ্যে শরীক বা অংশীদার থাকে এমন সম্পদ নিসাব পরিমাণ হয়ে অথবা নিসাবের চেয়ে বেশি হলেও যদি আলাদা আলাদা ভাবে ব্যক্তি সম্পদের নিসাব পূর্ণ না হয়, তাহলে যাকাত আবশ্যই হবে না। জুমহুর আলেমদের মত এটি। তবে সম্পদ ভিন্ন হলে আলেমদের মতে ইখতিলাফ রয়েছে, তবে আহনাফদের মতে সকল সম্পদ একই রকম ভাবে যাকাত আবশ্যক হবে।

অংশীদারী প্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানা এবং সরকারী শিল্প ব্যবসা কোম্পানীর মালের যাকাত :
প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা এবং সরকারী শিল্প ব্যবসা বাণিজ্য ইত্যাদি যার মধ্যে ব্যক্তি মালিকানার কোন অংশীদারিত্ব নেই এতে যাকাত ফরয হবে না। তবে যে সকল সরকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান ইত্যাদিতে ব্যক্তি মালিকানার অংশীদারিত্ব থাকে তাতে শুধু ব্যক্তি মালিকদের অংশের উপর যাকাত ফরয হবে। সরকারী অংশের উপর যাকাত ফরয হবে না। ব্যক্তি মালিকগণ তাদের অংশের যাকাত একত্রে আদায় করতে পারেন অথবা নিজ নিজ অংশের যাকাত পৃথক পৃথকভাবেও আদায় করা যায়।
তেমনিভাবে ব্যক্তি মালিকানাধীন কোম্পানীসমূহ তা একক ব্যক্তি মালিকানাধীন বা যৌথ মালিকানাধীন হোক এতে যাকাত ওয়াজিব হবে আদায়ের ক্ষেত্রে অনুরূপ করতে পারে।

শেয়ারের যাকাত :
শেয়ার কোম্পানিতে থাকা বিদ্যমান মালিকানার প্রতিনিধিত্ব করে। তাই কেউ যদি এ উদ্দেশ্যে শেয়ার ক্রয় করে যে, আগামীতে সেটি বিক্রি করে লাভ অর্জন করবে, সে কেমন যেন ক্যাপিটাল গেইন করতে থাকে। বছর শেষে শেয়ারের লাভ অর্জন আসল উদ্দেশ্য থাকে না, তাহলে এ ক্ষেত্রে এই শেয়ারের মার্কেট মূল্য অনুযায়ী তার উপর যাকাত ওয়াজিব হবে।
তবে শেয়ার ক্রয়ের সময় যদি ক্যাপিটাল গেইন করার ইচ্ছা না থাকে, বরং বছর শেষে লাভ অর্জন করা আসল উদ্দেশ্য থাকে। তবে সেই শব্দে এমনটি ইচ্ছে ছিল যে এই শেয়ার মার্কেট মূল্যের এই অংশের উপর যাকাত ওয়াজিব হবে। যা যাকাতযোগ্য সামগ্রীর বিনিময়ে হবে।
একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি বুঝবো। যেমন শেয়ার মার্কেট ভ্যালু ১০০ টাকা। যার ৬০ টাকা বিল্ডিং এবং মেশিন ইত্যাদির বিনিময়ে রয়েছে। আর অবশিষ্ট ৪০ টাকা কাঁচামাল, প্রস্তুতকৃত পণ্য এবং নগদে রয়েছে, তাহলে এ ক্ষেত্রে এই শেয়ারের ৪০ টাকা যেহেতু যাকাতযোগ্য সম্পদের বিনিময় রয়েছে। এ কারণে ৪০ টাকার ২.৫% টাকা যাকাত হিসাবে আদায় করতে হবে। আর অবশিষ্ট ৬০ টাকার উপর যাকাত ওয়াজিব হবে না।

যাকাতের যোগ্য নয়
বিল্ডিং বাবদ মেশিদ বাবদ মোট
৩০/= ৩০/= ৬০/=
যাকাতযোগ্য সম্পদ
প্রস্তুতকৃত পণ্য কাঁচামাল বাদ নগদ অর্থ মোট
১৫/= ১৫/= ১০/= ৪০/=

এক্ষেত্রে ব্যক্তিরা ইচ্ছা করলে তাদের যাকাত যৌথভাবে দিতে পারে আবার ইচ্ছা করলে লাভ অনুযায়ী আলাদা আলাদা দিতে পারে।

বন্ডের যাকাত :
সুদভিত্তিক অর্থনীতি নির্ভর ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিট, সঞ্চয়পত্র, প্রাইজ বন্ড এবং অনৈসলামী বীমা কোম্পানীর শেয়ার বাবদ প্রাপ্ত লাভ সুদ হিসাবে গণ্য; বিধায় সরাসরি হারাম ও অবৈধ হওয়ার কারণে লাভের সম্পূর্ণ অংশ সাওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরীব-মিসকীনদের দান করে অথবা জনহিতকর কাজ করে দায়মুক্ত হওয়া আবশ্যক। তবে এসকল বন্ডের আসল ও মূলধনের উপর যথানিয়মে যাকাত ফরয হবে।
অন্যের নামে জমাকৃত সম্পদের যাকাত :
রাষ্ট্রীয় কর থেকে বাঁচার জন্য কিংবা অন্য কোন উদ্দেশ্যে অন্যের নামে সম্পদ ক্রয় কিংবা জমা রাখা হলেও তাতে মূল মালিকের মালিকানা বাতিল হয় না। সুতরাং অন্যের নামে জমাকৃত সম্পদ নিসাব পরিমাণ হলে তার উপরেও যথানিয়মে যাকাত ফরয হবে এবং বছরান্তে তা আদায় করতে হবে।

অংশীদারী সম্পদের সুরাতি মাসয়ালা :
এক ভাই অপর ভাইয়ের দ্বারা দোকান চালু করেছে। টাকা ঐ ভাই বিনিয়োগ করে। পরিচালনার দায়িত্ব অপর ভাই পালন করে। আর লাভ উভয়ে মাঝে সমান ভাগে বন্টন হয়। এটা যেহেতু যৌথ কারবার, তাই এই যাকাত কার উপর আসবে?
উত্তর : প্রথমে বুঝে নেয়া উচিত যে, কোন কারবারে বিনিয়োগ করে লভ্যাংশ নির্ধারণ করা হলে শরঈ পরিভাষায় তাকে ‘মুদারাবা’ বলা হয়। অথচ আমাদের সমাজে একে ব্যাপকভাবে ‘শিরকত’ বলা হয়ে থাকে। এতে কিছু সম্পদ পুঁজি হিসাবে থাকে আর কিছু থাকে লভ্যাংশ। মুল পুজিঁর (টাকার) এবং লভ্যাংশের যাকাত মালিকের তথা রব্বুল মালের উপর ওয়াজিব হবে।
আর লভ্যাংশের ভিত্তি যে ব্যক্তি কাজ করে (মুদারিব) তার অর্জিত লাভ নিসাব পরিমাণ হলে এবং নিসাবে উপর বছর অতিবাহিত হলে তার উপরও যাকাত ওয়াজিব হবে। অবশ্য দোকানের জন্য যে জায়গা ক্রয় করা হয়েছে তাতে যাকাত আসবে না।
তেমনিভাবে যে কোন শরীকানাধীন ব্যবসা এক্সপোর্ট, ইম্পোর্ট, এলছি ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে এই ভাবে যাকাত আবশ্যক হবে।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি অংশীদারী সম্পদের ক্ষেত্রে ব্যক্তির যখন নিসাব পরিমাণ সম্পদ হবে এবং পূর্ণ এক বছর হবে তখন তার নিসাব অনুযায়ী যাকাত আবশ্যক হবে। ইচ্ছে করলে দুই জন বা একাধিক ব্যক্তি এক সাথে যাকাত আদায় করতে পারে। আর আলাদা আলাদা আদায় করে দিলে হবে।
অতএব আমাদের সকলের উচিত মহান আল্লাহ তায়ালার ফরয বিধান যাকাত আদায় করা। নিজের সম্পদকে পবিত্র করা নেয়া। আর যদি আদায় না করা হয়, তাহলে দুনিয়া ও আখেরাতে পেতে হবে কঠিন শাস্তি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সামর্থ্যবান সকলকে যাকাত আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
কিংবা অন্য কোন উদ্দেশ্যে অন্যের নামে সম্পদ ক্রয় কিংবা জমা রাখা হলেও তাতে মূল মালিকের মালিকানা বাতিল হয় না। সুতরাং অন্যের নামে জমাকৃত সম্পদ নিসাব পরিমাণ হলে তার উপরেও যথানিয়মে যাকাত ফরয হবে এবং বছরান্তে তা আদায় করতে হবে।

অংশীদারী সম্পদের সুরাতি মাসয়ালা :
এক ভাই অপর ভাইয়ের দ্বারা দোকান চালু করেছে। টাকা ঐ ভাই বিনিয়োগ করে। পরিচালনার দায়িত্ব অপর ভাই পালন করে। আর লাভ উভয়ে মাঝে সমান ভাগে বন্টন হয়। এটা যেহেতু যৌথ কারবার, তাই এই যাকাত কার উপর আসবে?
উত্তর : প্রথমে বুঝে নেয়া উচিত যে, কোন কারবারে বিনিয়োগ করে লভ্যাংশ নির্ধারণ করা হলে শরঈ পরিভাষায় তাকে ‘মুদারাবা’ বলা হয়। অথচ আমাদের সমাজে একে ব্যাপকভাবে ‘শিরকত’ বলা হয়ে থাকে। এতে কিছু সম্পদ পুঁজি হিসাবে থাকে আর কিছু থাকে লভ্যাংশ। মুল পুজিঁর (টাকার) এবং লভ্যাংশের যাকাত মালিকের তথা রব্বুল মালের উপর ওয়াজিব হবে।
আর লভ্যাংশের ভিত্তি যে ব্যক্তি কাজ করে (মুদারিব) তার অর্জিত লাভ নিসাব পরিমাণ হলে এবং নিসাবে উপর বছর অতিবাহিত হলে তার উপরও যাকাত ওয়াজিব হবে। অবশ্য দোকানের জন্য যে জায়গা ক্রয় করা হয়েছে তাতে যাকাত আসবে না।
তেমনিভাবে যে কোন শরীকানাধীন ব্যবসা এক্সপোর্ট, ইম্পোর্ট, এলছি ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে এই ভাবে যাকাত আবশ্যক হবে।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি অংশীদারী সম্পদের ক্ষেত্রে ব্যক্তির যখন নিসাব পরিমাণ সম্পদ হবে এবং পূর্ণ এক বছর হবে তখন তার নিসাব অনুযায়ী যাকাত আবশ্যক হবে। ইচ্ছে করলে দুই জন বা একাধিক ব্যক্তি এক সাথে যাকাত আদায় করতে পারে। আর আলাদা আলাদা আদায় করে দিলে হবে।
অতএব আমাদের সকলের উচিত মহান আল্লাহ তায়ালার ফরয বিধান যাকাত আদায় করা। নিজের সম্পদকে পবিত্র করা নেয়া। আর যদি আদায় না করা হয়, তাহলে দুনিয়া ও আখেরাতে পেতে হবে কঠিন শাস্তি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সামর্থ্যবান সকলকে যাকাত আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমীন।


১. সুরা নুর, আয়াত নং ৫৬
২. ফাতাওয়া শামী, ২য় খন্ড, ফাতাওয়া ও মাসাইল, ৪/৯১
৩. আলমাওসুআতুল ফিকহিয়া আলকুয়াইতিয়া, ২৩/২৩৫
৪. ফাতওয়া ও মাসাইল, ৪/৯১
৫. প্রাগুক্ত
৬. ফিকহী মাকালাত, মুফতী তকী উসমানী, ১/১৪৪
৭. প্রাগুক্ত
৮. ফাতাওয়ায়ে শামী, ২য় খন্ড
৯. ফাতওয়া ও মাসাইল, ৪/৯২
১০. আপকে মাসায়েল, ৩/৩৫০

আরো দেখান

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close