ইসলামী অর্থনীতিযাকাত

সাদাকাতুল ফিতর আদায় না করার পরিণতি

Print Friendly, PDF & Email

আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা যিনি মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের হিদায়েতের জন্য কিতাব, নবী ও রাসুল প্রেরণ করেছেন। মানবজাতির মধ্যে দুটি শ্রেণি রয়েছে- ধনী ও দরিদ্র। আল্লাহ তায়ালা দারিদ্রতাকে বিমোচনের জন্য ধনীদের সম্পদে গরিবদের জন্য হক্ক নির্ধারণ করেছেন। তা হচ্ছে যাকাত, সদাকাতুল ফিতর। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ.
তাদের সম্পর্কে যাঞ্চাকারী ও বঞ্চিতদের হক্ক রয়েছে।
নি¤েœ সদাকাতুল ফিতর আদায় না করার পরিণতি সম্পর্কে আলোচনা করার প্রয়াস পাব, ইনশাল্লাহ।
যারা ধন-সম্পদ জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে না, তাদের জন্য কঠিন শাস্তির কথা কুরআন মাজীদে এসেছে এভাবে-
وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنْفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ.
যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে না, তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও।

আর কুরআন মাজীদের অন্য আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, মানুষ সদকাহ না করার কারণে জাহান্নাতের শাস্তি ভোগ করবে। যেমন আল্লাহ বলেন-
كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ – إِلَّا أَصْحَابَ الْيَمِينِ – فِي جَنَّاتٍ يَتَسَاءَلُونَ – عَنِ الْمُجْرِمِينَ – مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ – قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ – وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ.
প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী। কিন্তু ডানদিকপন্থীরা। তারা থাকবে জান্নাতে এবং পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করবে। অপরাধীদের সম্পর্কে। কিসে তোমাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করিয়েছে? তারা বলবে, আমরা নামায পড়তাম না এবং অভাবীকে আহার্য্য দিতাম না।

কুরআন মাজীদের অন্য আয়াতে ফকীর-মিসকীনদের দান সদকাহ করার ভয়াবহ পরিণতির কথা বলা হয়েছে-
فَتَنَادَوْا مُصْبِحِينَ (২১) أَنِ اغْدُوا عَلَى حَرْثِكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَارِمِينَ (২২) فَانْطَلَقُوا وَهُمْ يَتَخَافَتُونَ (২৩) أَنْ لَا يَدْخُلَنَّهَا الْيَوْمَ عَلَيْكُمْ مِسْكِينٌ (২৪) وَغَدَوْا عَلَى حَرْدٍ قَادِرِينَ (২৫) فَلَمَّا رَأَوْهَا قَالُوا إِنَّا لَضَالُّونَ.
সকাল বেলা তারা পরস্পরকে ডাকল যে, ফল পাড়লে হলে সকাল সকালই ক্ষেতের দিকে রওয়ানা হয়ে চল, অতঃপর তারা রওয়ানা হয়ে চলে গেল এবং চুপে চুপে বলছে যে, আজ যেন কোন ভিখারী তোমাদের কাছেও ঘেঁষতে না পারে। তারা কাউকে কিছু না দেয়ার সিদ্ধান্ত করে খুব ভোরে তাড়াহুরা করে সেখানে এমনভাবে উপস্থিত হল, যেন তারা ফল পাড়তে সক্ষম হয়। কিন্তু যখন তারা বাগানটি দেখল, তারা বলতে লাগল, নিশ্চয়ই আমরা পথ ভুলে গেছি।
অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তাদের সতর্ক করে বলেন-
كَذَلِكَ الْعَذَابُ وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَكْبَرُ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ.
এমনিই হয়ে থাকে আযাব, আর পরকালের শাস্তিতো আরো অনেক বড়, যদি তারা জানতো।

যারা ধন-সম্পদ জমা করে যাকাত আদায় করে না ও সদাকাতুল ফিতর দেয় না, তাদের ধন-সম্পদকে কিয়ামতের দিন সাপ বানানো হবে এবং সেই সাপগুলো তাদেরকে দংশন করবে। হাদীসে বর্ণিত আছে-
عن أبي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : من آتاه الله مالا فلم يؤد زكاته مثل له ماله شجاعا أقرع له زبيبتان يطوقه يوم القيامة يأخذ بلهزمتيه يعني بشدقيه يقول أنا مالك أنا كنزك. ثم تلا هذه الآية (ولا يحسبن الذين يبخلون بما آتاهم الله من فضله) إلى آخر الآية.
হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যাকে আল্লাহ তায়ালা সম্পদ দিয়েছেন কিন্তু সে তার যাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন তার সম্পদকে বিষধর সাপের আকৃতি দেয়া হবে এবং কিয়ামতের দিন তা গলায় পড়িয়ে দেয়া হবে অতঃপর তা দু চোয়ালো দংশন করবে এবং বলবে, আমি তোমার পুঞ্জিভূত সম্পদ, আমি তোমার মাল। এরপর তিনি আয়াত তিলাওয়াত করেন- আল্লাহ তাদেরকে নিজের অনুগ্রহে যা দান করেছেন, তাতে যারা কৃপণতা করেছেন। এই কার্পণ্য তাদের জন্য মঙ্গলকর হবে বলে তারা ধারণা না করে এবং এটা তাদের পক্ষে একান্তই ক্ষতিকর হবে। যাতে তারা কার্পন্য করে, সে সমস্ত ধন-সম্পদকে কিয়ামতের দিন তাদের গলায় বেড়ি বানিয়ে পরানো হবে। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত নং ১৮০)
মুসলিম শরীফে বর্ণিত হাদীসে যাকাত আদায় না করার কারণে কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছ। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا مِنْ صَاحِبِ كَنْزٍ لاَ يُؤَدِّى زَكَاتَهُ إِلاَّ أُحْمِىَ عَلَيْهِ فِى نَارِ جَهَنَّمَ فَيُجْعَلُ صَفَائِحَ فَيُكْوَى بِهَا جَنْبَاهُ وَجَبِينُهُ حَتَّى يَحْكُمَ اللَّهُ بَيْنَ عِبَادِهِ فِى يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ ثُمَّ يُرَى سَبِيلَهُ إِمَّا إِلَى الْجَنَّةِ وَإِمَّا إِلَى النَّار.
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি তার সম্পদের যাকাত আদায় না করে তবে আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন আগুনের পাত বানাবেন এবং তা দ্বারা (কিয়ামতের দিন) তার কপালে, পিঠে, পার্শ¦দেশে সেক দেয়া হবে। সেদিন একদিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। এভাবে শাস্তি চলবে যতক্ষণ না বিচার সমাপ্ত হয়, অতঃপর সে তার পথ দেখবে হয়তো জান্নাতে নয়তো জাহান্নামে যাবে।

প্রান্তিকা : আমরা আল্লাহ তায়ালার আদেশ পালনার্থে ও তাঁর সন্তুষ্টির জন্য এবং পরকালীন মুক্তির আশায় যাকাত আদায় করব। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ইখলাসের সাথে যাকাত আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমীন।


১. সুরা যারিয়াত, আয়াত নং ১৯
২. সুরা তাওবা, আয়াত নং ৩৪
৩. সুরা মুদ্দাসসির, আয়াত নং ৩৮-৪৪
৪. সুরা ক্বলম, আয়াত নং- ২১-২৬
৫. সুরা ক্বলম, আয়াত নং- ৩৩
৬. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪২৮৯
৭. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৩৩৯

Tags
আরো দেখান

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close