হারাম উপায়ে অর্জিত মালের যাকাতের বিধান

ভূমিকা:
সমস্ত তারিফ ও প্রসংসা একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য। দরুদ সালম রাসুলে কারিম সা. এর জন্য তার বংশ পরিবার সঙ্গী সাথীদের প্রতি দ্বীন ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে সামষ্ঠিক অর্থনৈতিক স্তম্ভ হচ্ছে যাকাত। তওহিদী ঈমান ও নামায কায়েমের সঙ্গে সঙ্গে এই যাকাত রীতিময় আদায় করেই এক ব্যক্তি মুসলিম সমাজের অন্তরভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। কোরআন মাজিদের যে সব আয়াতে যাকাতের উল্লেখ রয়েছে, তাফসির লেখ্যঅন সেই আয়াতকে ভিত্তি করে যথেষ্ট চিন্তা গবেষণা চালিয়েছেন। এই পর্যায়ে সুরা আল বাকারার ২৬৭ ও তৎপরবর্তী আয়াত সুরা আল আন আমের ১৪১ আয়াত, সুরা আত তাওবার ৩৪, ৬০ ও ১০৩ নং আয়াত এবং আরও কয়েকটি সুরার আয়াতে উল্লেখ করা আছে।

হারাম সম্পদের যাকাত হয় না:
যাকাত ফরয হওয়ার জন্যে মালিকানা শর্ত বিধায় ঘুষ বা হারাম কোন উপায়ে অর্জিত সম্পদ বা সম্পাত্ততে যাকাত ফরয হতে পারে না। চুরি পরস্বাপরহরণ মিথ্যা বা প্রতারণা, সুদ মজুতকরণ। ধোকাবাজি বা ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদও এ পর্যায়ে গণ্য। কেননা এগুলো বাতিল পন্থায় লোকদের মাল গ্রহনের বৗাপারে যা কুরআনে নিষিদ্ধ। অত্যাচারী রাজা বাদশাহ ও চরিত্রহীন রাজন্যর্বগের ধন সম্পদের ক্ষেত্রেও এ কথা। কেননা তারা এ সব সম্পদের মালিক নয়। তারা যদি তাদের হালাল মাল কে তার সাথে মিশ্রিত করে এবং তা আলাদা করা সম্ভব না হয় তা হলেও যাকাত হবে না। বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন খারাপ (হারাম) মাল নেসাব পরিমাণ হলেও তার উপর যাকাত ধার্য হবে না। কেননা তা প্রকৃত মালিকের সন্ধান পাওয়া গেলে তার বা তার উত্তরাধিকারীর কাছে তা ফেরত দেয়াই তার কর্তব্য। আর তার সন্ধান পাওয়া না গেলে তা দরিদ্রের মধ্যে বিতরণ করে দিতে হবে। তার কতকাংশ দান করলে কোন লাথ হবে না। হারাম মালের যাকাত না নেয়ার যুক্তি স্বরূপ উল্লেখ করা হয়েছে যে, তা তো দাতার নিজের মালিকানাভূক্ত সম্পদ নয়। তাতে কোন রূপ হস্তক্ষেপ করাই নিষিদ্ধ। যাকাত দোও এক প্রকার হস্তক্ষেপ। তা গ্রহণ করা হলে তার অবস্থা এই দাঁড়াবে যে, তা একদিন দিয়ে আদিষ্ট ও আর দিক দিয়ে নিষিদ্ধ।

১. দলিল:
ইবনে নাজিম লিখিত البحر الرائق এবং ইবনে আবেদীন লিখিত তার টাকা ২য় খন্ড, ২২১ পৃষ্টায় এ পর্যায়ে ইমাম আবু হানিফা রহ. মনে করেন কেউ যদি কিছু টাকা অপহরণ করে ও তার নিজের টাকার সাথে তা মিশ্রন করে তা হলে মনে করতে হবে, সে তা খরচ করে ফেলেছে। সে তা মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যে দায়ী থাকবে। অবশ্য ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদের মতে দায়ী হে না। কেননা সেখানে মালাকানাই প্রমাণিত নয় তা সম্মিলিত সম্পদ। তার উপর যাকাত ফরয হবে না।

হালাল-হারাম উভয় প্রকার সম্পদের সংমিশ্রণে থাকলে করণীয়:
যদি কারো নিকট হালাল- হারাম উভয় প্রকার সম্পদ মিশ্রিত থাকে। তাহলে যদি তা পৃথক করা সম্ভব হয় (চাই তা সরাসরি হোক বা হিসাবের মাধ্যমে পরিমাণ করে হোক)। তাহলে হালাল সম্পদের যাকাত দিতে হবে, যদি তা নেসাব পরিমাণ হয়। হারাম সম্পূর্ণই মূল মালিকের পক্ষ থেকে সদকা করে দিতে হবে। আর যদিতা কোন ক্রমেই আলাদা করা বা হিসাব করে তার পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব না হয়। তাহলে অনুমান করত হালালের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। এবং সে পরিমাণের যাকাত আদায় করতে হবে। আর অবশিষ্ঠ অংশ পূর্ণই দায় মুক্তির উদ্দেশ্যে সাওয়াবের নিয়্যত ব্যতিরেকে সদকা করে দিতে হবে। তবে অনুমানের ক্ষেত্রে সদকার নিয়্যতে হারামের পরিমাণ বেশি ধরতে হবে, যাতে বাকী অংশ হালাল হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহ অবশিষ্ঠ না থাকে।


১. আদ্দুররুল মুখতার, খ. ২, পৃ. ২৯০, রদ্দুল মুহতার, খ. ২, পৃ. ২৯১, আলবারুর রায়েক, খ. ২, পৃ. ৩৫৯, ফাতাওয়া দারুল উলূম, খ. ৪, পৃ. ৪৬, আহসানুল ফাতাওয়া, খ. ৪, পৃ. ২৮৩, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া, খ. ৯, পৃ. ৩১৫, তা তারখানিয়া, খ. ২, পৃ. ২৮৭-২৮৯, আননাহারুল ফায়েক, খ. ১, পৃ. ৪১৩।
২. ফাতহুল বারি, খ. ৩, পৃ. ১৮০

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *