যে কথায় ঈমান চলে যায় এবং বিবাহ ভেঙ্গে যায়

ঈমান এমন একটি মূল্যবান জিনিস যে, দুনিয়া ও আখেরাতের কিছুই তার সমতুল্য নয়। আইনস্টাইনের মতো বড় বড় বিজ্ঞানী আর একজন মূর্খ ঈমানদার ব্যক্তির পার্থক্য হলো, মূর্খ লোকটি ঈমান নিয়ে কবরে গেল, আর সে একজন প্রকৃত জ্ঞানীর পরিচয় দিল এবং দুনিয়ার সকল সম্পদ হইতে বহু গুণ বড়, অগণিত গুণ বেশি উৎকৃষ্ট সম্পদের অধিকারী হয়ে সে আখেরাতে পাড়ি জমালো। অপরদিকে বেঈমান হয়ে কবরে গিয়ে একজন বিজ্ঞানী, দার্শনিক, পণ্ডিত বড়ই মূর্খতার পরিচয় দিল এবং আখেরাতে জাহান্নামে গিয়ে সর্বহারা হলো।

একজন মুমিন হলেই চলবে না, মৃত্যু পর্যন্ত তার ঈমান অটুট রাখতে হবে এবং ঈমানদার অবস্থায় কবরে যেতে হবে। এমন কথা বলা বা এমন কাজ করা বা এমন বিধান মানতে পারবে না, যার দ্বারা তার ঈমান চলে যায়। ঈমানের কিছু বিষয় আছে যাকে ‘জরুরিয়াতে দ্বীন’ বলে। এই জরুরিয়াতে দ্বীন সম্পর্কে জানা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ। প্রত্যেককেই তা শিখতে হবে। মূর্খ বলে কেউ “জানতাম না” বলে ক্ষমা পাবে না। একইভাবে যে কথা বললে বা বিশ্বাস করলে ঈমান চলে যায় সে বিষয়ে জ্ঞানার্জন করাও প্রত্যেক মূর্খ ও শিক্ষিত মুসলিমের উপর ফরজ।

আল্লামা শামী ‘রদ্দুল মুহতারে’ লিখেছেন,

مطلب في فرض الكفاية و فرض العين و في بيتين المحارم)

لا شك في فرضية علم الفرائض الخمس (إلى) و علم الألفاظ المحرمة أو المكفرة و لعمرى هذا من أهم المهمات فى هذا الزمان لأنك كثيرا من العوام يتكلمون بما يكفر وهم عنها غافلون (و في تبيين المحارم)

“তাবঈনুল মাহারিম কিতাবে আছে, “পাঁচটি ফরজ সংক্রান্ত ইলম এবং হারাম ও কুফরীমূলক শব্দগুলির ইলম শিক্ষা করা যে ফরজ এত কোন সন্দেহ নেই। আমি শপথ করে বলছি, বর্তমান যুগে হারাম ও কুফরীমূলক কথাগুলির ইলম শিক্ষা করা প্রধানতম জরুরী। কেননা অধিকাংশ সাধারণ লোকদের বলতে শোনা যায়, তারা এরূপ কথাবার্তা বলে থাকে যাতে তারা কাফের হয়ে যায়, অথচ তারা এই বিষয়ে অবগত হতে পারে না। (শামী ১ম খন্ড, মতলব ফি ফারদিল কিফায়াত ওয়া ফারদিল আইনি)

মুসলিম নর-নারীর বিবহ ততক্ষণ থাকবে যতক্ষণ তাদের উভয়ের ঈমান অটুট থাকবে:

কাফেরে সাথে কোন মুসলিমের বিবাহ হতে পারে না। একজন মুসলিম নারীর বিবাহ শুধু মুসলিম পুরুষের সাথেই হতে হবে, উভয় ঈমান থাকা জরুরী। কিন্তু উভয়ের বিবাহিত জীবনে যদি কারো ঈমান চলে যায় এবং ইসলামের গণ্ডি হতে বের হয়ে যায় তখন তাদের একজন বেঈমান হওয়াতে আর বিবাহ অটুট থাকবে না; বরং বিবাহ ভেঙ্গে যাবে।

কুফরীর কথার দ্বারা বিবাহ ভেঙ্গে গেলে করণীয়:

কুফরী কথার দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ ভেঙ্গে গেলে উভয়ের মাঝে যার কথার দ্বারা বিবাহ ভঙ্গ হয়েছে তাকে উক্ত কথা থেকে মনে প্রাণে ফিরে আসতে হবে এবং তাওবা করত দুইজন সাক্ষী ও নতুন মহরানা ধার্য করে বিবাহ পুনরায় সম্পাদন করতে হবে।

একটি সতর্কতামূলক মাসআলা:

বর্তমান সময়ে ঈমান দূর্বল হওয়া এবং মূর্খতার কারণে মুখ হতে হর-হামেসা কুফরীমূলক কথা বের হয়। পুরুষ অপেক্ষা নারীদের দ্বারা এটা বেশি সংঘটিত হয়ে থাকে। কখন যে এটা সংঘটিত হয়েছে বা কখন মুখ থেকে এমন কথা বের হয়েছে; যার কারণে ঈমান চলে যায়, তারা এর বিলক্ষণও জানতে পারে না। অথচ এটা জানা তাদের দাম্পত্য জীবন কাটাবার ফলে আখেরাত বরবাদ করে বসে।

আল্লামা শামী ‘রদ্দুল মুহতারে’ এই কারণে সতর্কতার এই সমাধান দিয়েছেন এইভাবে,

و الاحتياط أن يجدد الجاهل إيمانه كل يوم و يجدد نكاح امرأته عند شاهدين في كل شهر مرة أو مرتين إذ الخطأ و إن لم يصدر من الرجال فهو من النساء كثير (مطلب في فرض الكفاية و فرض العين)

“ইহতিয়াত তথা সতর্কতা এই যে, মুর্খ ব্যক্তি প্রত্যেক দিবসে নিজের ঈমান নতুন করিয়া লইবে এবং প্রত্যেক মাসে একবার কিংবা দুইবার দুইজন সাক্ষীর সম্মুখে নিজের স্ত্রীর সাথে বিবাহ পুনরায় সম্পাদন করিয়া নিবে। কেননা এই জাতীয় ভুল যদি পুরুষ কর্তৃক নাও হয়ে থাকে, স্ত্রী লোকদের দ্বারা বহুবার সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।”

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *