বিবিধযাকাতসমসাময়িক মাসআলা

যাদের যাকাত প্রদান করা উত্তম

Print Friendly, PDF & Email

ইসলাম সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের ধর্ম। একজনের হাতে বিপুল পরিমাণে অর্থ-সম্পদ জমা হবে এটা ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলাম হচ্ছে একমাত্র জীবন বিধান যা ধনী-গরীব সকলের কল্যাণ কামনা করে। ধনী-গরীব সকলে স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপন করুক এটাই ইসলামের কাম্য। ইসলাম ধনীদের উপর গরীবের হক নির্ধারণ করে দিয়েছে। কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে-
وَالَّذِينَ فِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ مَعْلُومٌ- لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ.
অর্থ : আর যাদের ধন-সম্পদ রয়েছে তাদের উপর ভিক্ষুক ও বঞ্চিতদের জন্য নির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে।
জমাকৃত সম্পদ নিসাব পরিমাণ ও পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হলে যাকাত ফরয হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنْفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ. (سورة التوبة : ৩৪)
তাফসীরে মাযহারীতে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লেখ আছে, শুধু স্বর্ণ ও রৌপ্য নয়; বরং নগদ অর্থও উদ্দেশ্য। আল্লাহর রাস্তা বলতে যাকাতকে বুঝানো হয়েছে।
নিসাব পরিমাণ সম্পদের যাকাত ব্যয় করার জন্য আল্লাহ তায়ালা নির্ধারিত খাত নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ.
অর্থ্যাৎ, যাকাত হলো কেবল ফকীর, মিসকীন, যাকাত আদায়কারী কর্মচারী ও যাদের চিত্তাকর্ষণ প্রয়োজন তাদের হক। এবং তা ঋণগ্রস্থ আল্লাহ পথে জিহাদকারী ও মুসাফিরদের জন্য। এই হলো আল্লাহর বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
কুরআন মাজীদে যাকাত ব্যয় করার উপরোক্ত আটটি খাত নির্ধারণ করা হয়েছে। উক্ত খাতগুলো ব্যতীত যাকাতের অর্থ ব্যয় করা হলে যাকাত আদায় হবে না।
উপরোক্ত খাতগুলোর অন্তর্ভূক্ত এমন কিছু খাত রয়েছে যেগুলোতে যাকাতের অর্থ ব্যয় করা সর্বোত্তম। খাতগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-
নিকটতম আত্মীয়কে প্রদান :
যাকাত প্রদানকারীর যদি নিকটতম কোন আত্মীয়-স্বজন অভাবী হলে তাদের যাকাত প্রদান করা সর্বোত্তম। নিকটতম আত্মীয়কে দান করা হলে দ্বিগুণ সওয়াব পাওয়া যায়।
এক. যাকাতের সাওয়াব।
দুই. আত্মীয়-স্বজনের জন্য উত্তম আচরণের সওয়াব।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
الصدقة على غير ذي الرحم صدقة وعلى ذي الرحم اثنان صدقة وصلة.
অনাত্মীয়কে দান করা হলে শুধু দানের সওয়াব। আর আত্মীয়কে দান করা হলে দুই সওয়াব। একটি হলো দানের সওয়াব, আরেকটি হলো উত্তম আচরণের সওয়াব।
তাবেয়ী দাহহাক রহ. বলেছেন-
اذا كان لك أقارب فقراء فهم أحق بزكاتك من غيرهم.
যদি তোমার কোন দরিদ্র নিকটাত্মীয় থাকে, তাহলে সে তোমার যাকাত পাওয়ার জন্য অন্যদের থেকে বেশী হকদার।
ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত-
لا بأس ان تجعل زكاتك في ذوي قرابتك ما لم في عيالك.
তোমার পরিবারের আওতাধীন না হলে তোমার নিকটাত্মীয়কে যাকাত দিতে কোন সমস্যা নেই।

তালিবে ইলম :
বর্তমান সময়ে দান-সদকার বা যাকাতের অন্যতম উত্তম খাত হলো তালিবে ইলমকে দান করা। যারা সর্বদা দ্বীনি ইলম অর্জন বা তার প্রচার-প্রসারে লিপ্ত রয়েছে। এর দ্বারা যেমন যাকাত আদায়ের সাওয়াব পাওয়া যাবে ঠিক তেমনি দ্বীনি কাজে সহযোগিতা ও তার প্রচার-প্রসারে অংশগ্রহণে সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব পাওয়া যাবে।
তবে শর্ত হলো ঐ তালিবে ইলম দরিদ্র হতে হবে। ধনী তালিবে ইলকে সহীহ নয়। তালিবে ইলম গরীব হলে তাকে যাকাতের টাকা প্রদান করা যাবে।
তালিবে ইলম ফী সাবীলিল্লাহের অন্তর্ভূক্ত হলেও যাকাত গ্রহণ করার জন্য অভাবগ্রস্থ ও দরিদ্র হওয়া শর্ত।

অভাবগ্রস্থ আলিমকে প্রদান :
আলেমগণ হলো দ্বীনের ধারক বাহক। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবর্তমানে দ্বীনের প্রচার প্রসারে আলেমগণের হাতের নিহিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
العلماء ورثة الأنبياء.
দ্বীনের আলেমগণ রাসুলগণের উত্তরসূরী।
রাসুলের পরে দ্বীনের দাওয়াতী কাজ তারাই করবে। দ্বীনের আলেমগণ যাতে দুনিয়াবি কাজে জড়িয়ে না পড়েন, দ্বীনের প্রচার-প্রসারে ও দ্বীনি কাজে নিয়োজিত থাকতে পারেন, এ জন্য যাকাতের অর্থ দরিদ্র আলেমকে প্রদান করা সর্বোত্তম। দ্বীনের আলেমগণকে সাহায্য করা মানেই দ্বীন ইসলামের সাহায্য করা। তাই অনেক ইসলামী আইনবিদ অভাবগ্রস্থ আলেমকে যাকাত প্রদানের প্রাধান্য দিয়েছেন। এ ব্যাপারে ফতোয়ায়ে আলমগীরিতে এসেছে-
التصدق على العالم الفقير أفضل من التصدق على الجاهل.
জাহেলকে সদকা দেয়ার চেয়ে আলেমকে সদকা দেয়া উত্তম।

আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বর্ণনা করেন, তিনিও আহলে ইলেমদের জন্য খরচ করার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতেন। যেন সে ইলমে দ্বীনের কাজে নিশ্চিন্ত অবসর গ্রহণ করতে পারেন।

নিজ শহরে আগে প্রদান করা :
যাকাত প্রদানকারী যেই শহরে বসবাস করে, সেই শহরে বসবাসরত গরীব অসহায় লোকদের যাকাত আগে প্রদান করতে হবে। কেননা ব্যক্তির উপর তার প্রতিবেশির হক রয়েছে। এতে দ্বিগুণ সওয়াব পাওয়া যায়। একটি হলো প্রতিবেশির হক আদায়ের অপরটি যাকাত আদায়ের সওয়াব।
রাসুল সাল্রাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মুয়াজ ইবনে জাবা রা. কে ইয়ামানের শাসনকর্তা নিযুক্ত করে পাঠালেন এবং কতিপয় উপদেশ দিয়েছিলেন, যার মধ্যে একটি উপদেশ ছিল-
تؤخذ من اغنيائهم وترد على فقرائهم.
অর্থাৎ তাদের মধ্যে যারা ধনী, তাদের থেকে যাকাত গ্রহণ করবে এবং তাদেরই মধ্যে যারা অভাবী তাদের মাঝে বন্টন করে দিবে।
উক্ত হাদীসের ভাষ্যমতে, যে অঞ্চল থেকে যাকাত গ্রহণ করা হবে, সে অঞ্চলেই তা বিতরণ করতে হবে। তবে নিজ শহরে বা এলাকায় প্রদান করে অন্য স্থানে স্থানান্তর করলে কোন সমস্যা নাই।

মুসলিম দাসমুক্তি :
ইসলাম দাস মুক্তকরণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সে জন্য বিপুল উৎসাহও প্রদান করেছে এবং এটাকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উৎকৃষ্ট পন্থারূপে উল্লেখ করা হয়েছে।
কুরআনে উল্লেখিত في الرقاب দ্বারা কেবলমাত্র ক্রীতদাসকেই বুঝায়। একজন মুসলমান পরাধীনতায় আবদ্ধ থাকবে এটা ইসলাম সমর্থন করে না।
ইমাম আহমদের মতে, মুসলিম বন্ধীকে যাকাতের টাকা দিয়ে মুক্ত করা অবশ্যই শরীয়ত সম্মত কাজ হবে। কেননা তাতে তার ঘাড়কে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করা হয়।
ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেছেন, উমর ইবনে আব্দুল আজীজ রহ.আমাকে আফ্রিকায় যাকাত আদায়ের জন্য প্রেরণ করেছিলেন। আমি সে টাকা যথারীতি আদায় করে তা বন্টন করার জন্য ফকীর-মিসকীন তালাশ করতে লাগলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একজন ফকীরও পেলাম না। এমন একজনকেও পেলাম না যে, যাকাত গ্রহণ করতে রাজি হতে পারে। আসলে উমর ইবনে আব্দুল আজীজ জনগণকে অর্থ সম্পদ দান করে স্বচ্ছল ও অর্থশালী বানিয়ে দিয়েছেন। তখন আমি ঐ টাকা দিয়ে ক্রীতদাস ক্রয় করে তাদের মুক্ত করে দিয়েছি।
ইবনে হুবাইব রহ. বলেন, মুসলিম দাসকে একজন মুসলিম মালিকের নিকট হতে যাকাতের টাকা দিয়ে মুক্ত করা ইবাদতের কাজ। আর যদি মুসলিমকে কাফিরের বন্দিদশা হতে যাকাতের টাকা দিয়ে মুক্ত করা হয়, তাহলে তো এটি অধিক উত্তম কাজ বলে বিবেচিত হওয়াই বাঞ্চনীয়।
সুরা নুরে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَآتُوهُمْ مِنْ مَالِ اللَّهِ الَّذِي آتَاكُمْ.
আর তাদের সেই মাল হতে দাও, যা আল্লাহ তোমাদের দান করেছেন।
তাফসীরে মাযহারীতে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে- সাধারণত মুসলমানদেরকে এবং বিশেষভাবে মালিকদেরকে এই সম্মোধন করা হয়েছে। গোলামের মুক্তি যখন নির্ধারিত পরিমাণ টাকা মালিককে অর্পন করার উপর নির্ভরশীল থাকবে, তখণ মুসলমানদের এই ব্যাপারে তার সাহায্য করা উচিত। যাকাতের অর্থও তাকে দিতে পারবে। মালিকদেরকে উৎসাহিত করা হয়েছে। যাতে নিজেরাও তার সাহায্য করতে পারে এবং চুক্তির বিনিময়ে কিছু হৃাস করে দেয়।
অতএব উপরোক্ত আলোচনা হতে বুঝা যায়- যাকাতের টাকা দাসমুক্তিতে প্রদান করা উত্তম ও সওয়াবের কাজ।

প্রতিবেশিকে প্রদান করা :
মানুষ স্বাভাবিকভাবে ও নিজেদের প্রয়োজনে সমাজবদ্ধ জীবনযাপন করে। যেহেতু মানুষ পরষ্পর নির্ভরশীল এই কারণেই তারা পাশাপাশি ঘর-বাড়ি তৈরি করে। সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে, পরস্পরের সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিবেশির হক নির্ধারণে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
‘প্রতিবেশি তিন প্রকার। এক. কাফের প্রতিবেশী। তাদের কেবল একটি অধিকার। তাহলো প্রতিবেশিত্বের অধিকার। দুই. মুসলিম প্রতিবেশী। তাদের দুটি অধিকার। একটি হলো মুসলমান হওয়ার অধিকার অপরটি প্রতিবেশি হওয়ার অধিকার। তিন. মুসলমান আত্মীয় প্রতিবেশি। তাদের তিনটি অধিকার। একটি হলো মুসলমানদের অধিকার। দ্বিতীয়টি হলো আত্মীয়তার অধিকার। তৃতীয়টি হলো প্রতিবেশিদের অধিকার।
ইসলাম মুসলমান প্রতিবেশি ও মুসলমান আত্মীয় প্রতিবেশীর ব্যাপারে অধিক হক নির্ধারণ করে দিয়েছে। যেহেতু مؤلفة قلوب ব্যতিত অমুসলিমদেরকে যাকাত দেয়া যাবে না। তাই অমুসলিমদের যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে উত্তমতার প্রশ্নই আসে না।
যাকাত পাওয়ার দিক বিবেচনায় মুসলিম প্রতিবেশি ও আত্মীয় প্রতিবেশিই অধিক হকদার।
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ مُخْتَالًا فَخُورًا.
অর্থাৎ তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তার সাথে কাউকে শরীক করো না। পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো এবং আত্মীয়-স্বজন, এতীম, মিসকীণ, নিকটবর্তী প্রতিবেশি ও দুরবর্তী প্রতিবেশি, সাথী-সঙ্গী, পথিক এবং তোমাদের অধিনস্থ দাস-দাসীর সাথেও। আল্লাহ গর্বিত অহংকারী লোককে কখনও ভালোবাসেন না।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
ليس المؤمن الذي يشبع وجاره جائع.
অর্থাৎ ঐ ব্যক্তি পরিপূর্ণ মুমিন নয়, যে তৃপ্তিসহকারে খাবার খায় আর তার প্রতিবেশি ক্ষুধার্থ থাকে।
উপরোক্ত কুরআন ও হাদীসের আলোকে প্রতীয়মান হয় যে, দরিদ্র প্রতিবেশিকে যাকাত প্রদান করা অধিক উত্তম। তাদের যাকাত প্রদান করা হলে যাকাত আদায় করা হবে এবং প্রতিবেশির হক আদায়ে সওয়াবও হবে।


তথ্যসুত্র:

১. সুরা মাআরিজ, আয়াত নং ২৪
২. সুরা তাওবা, আয়াত নং ৬০
৩. জামে তিরমিযি, ২/৬৪১
৪. মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদীস নং ১০৬৩৯
৫. মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদীস নং ১০৬৩৪
৬. ফিকহুয যাকাত, ২/৩২, আহসানুল ফাতাওয়া, ৪/২৫২
৭. ফাতাওয়া দারুল উলুম, ৬/২৫২
৮. সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৬৪৩
৯. ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া, ১/১৮৭
১০. ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন, ১/২২১
১১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩৩১
১২. আররওদ্বুল মুরাব্বা’, ১/৪০২
১৩. সীরাতে উমর বিন আব্দুল আজীজ, পৃষ্ঠা – ৫৭
১৪. সুরা নুর, আয়াত নং ৩৩
১৫. তাফসীরে মাযহারী।
১৬. কাশফুল বারী, ২৫/১০৯
১৭. সুরা নিসা, আয়াত নং ৩৬
১৮. মুসনাদে আবু ইয়ালা’, হাদীস নং ৬২৯৯

Tags
আরো দেখান

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close