Uncategorizedযাকাতরমাদান

অধিনস্থ ব্যক্তির পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর আদায়

Print Friendly, PDF & Email

সদকায়ে ফিতর:
عن ابن عمر رضي الله عنهما قال فرض رسول الله صلى الله عليه و سلم زكاة الفطر صاعا من تمر أو صاعا من شعير على العبد والحر والذكر والأنثى والصغير والكبير من المسلمين وأمر بها أن تؤدى قبل خروج الناس إلى الصلاة.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সা. মুসলিম জনগণের মধ্য হতে প্রত্যেক দাস-দাসী, স্বাধীন ব্যক্তি, নারী-পুরুষ, ছোট-বড় সকলের উপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ফরজ করে দিয়েছেন। এর পরিমাণ হচ্ছে এক সা খেজুর বা এক সা যব। এ সদকা ঈদুল ফিতরের নামাযের জন্য বের হওয়ার পূর্বে আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখিত হাদিস দ্বারা সদকাতুল ফিতরকে ওয়াজিব করা হয়েছে। এর দুটি উদ্দেশ্য-
১. সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব করা হয়েছে কারণ রোজা পালনকালে যেসব বেহুদা, অনর্থক কিংবা অশ্লীল কথা কাজ সংফটিত হয়েছে, বিভিন্ন প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটেছে সব কিছু ধুয়ে মুছে পবিত্র করার লক্ষ্যে।
২. দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর আত্মশুদ্ধ মুসলমানদের ঘরে ঈদ এক আনন্দের বার্তা ও খুশির সংবাদ বহন করে আসে। অর্থনৈতিক অসচেনতার কারণে যেন ঈদের আনন্দ থেকে গরিবরা বঞ্চিত না হয়। এজন্য সদকাতুল ফিতর এর প্রবর্তন করা হয়েছে।

সদকাতুল ফিতর এর পরিচয়:
ঈদুল ফিতরের দিনে আদায় করা সদকাকে সদকাতুল ফিতর বলা হয়। এটাকে যাকাতুল ফিতর বা ফিতরাও বলা হয়ে থাকে আবু মুহাম্মদ আল আরহারী এটাকে “যাকাতুল খিলকাত” ও বলেছেন।

সদকাতুল ফিতর এর ইতিহাস:
আবু সাঈদ খুদরি থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নরীজি সা. এর জামানায় আমরা সদকাতুল ফিতর দিতাম এক সা খাদ্যবস্ত তিনি বলেন, তখন আমাদের খাদ্য ছিল, যব, কিসমিস, পানির ও খেজুর। তিনি আরো বলেন, আমরা সদকাতুল ফিতর আদায় করতাম, এক সা খাদ্যস্তু, এক সা খেজুর, বা এক সা পানির অথবা এক সা কিসমিস।
ইবনে কুদামা রা. আবু মিজলোজের বর্ণনা উল্লেখ করে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. কে বলেন আল্লাহ তায়ালা যখন প্রাচুর্য দিয়েছেন আর গম যেহেতু খেজুর অপেক্ষা উত্তম তবুও আপনি খেজুর দ্বারা ফিতরা আদায় করেছেন কেন? এর উত্তররে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেছেন, যে পথে চলেছেন আমিও সে পথে চলা পছন্দ করি।

অধিনস্ত ব্যক্তির সদকাতুল ফিতর আদায়ের বিধান:
অধিনস্ত ব্যক্তির সদকাতুল ফিতর এর আলোচনার পূর্বে দুইটি বিষয় জানা প্রয়োজন

১. অধিনস্ত যারা:
তারা হয়ত সন্তানাদি, স্ত্রী, ভাই- বোন বা পিতামাতা ইত্যাদি যারা পরিবারভুক্ত।
অপর দিকে গোলাম। সে হতে পারে খেদমতের জন্য অথবা ব্যাসায় কাজের জন্য নিযোগকৃত।

২. সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার সবব:
সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে হিদায়া গ্রন্থকার বলেন-
لِأَنَّ السَّبَبَ رَأْسٌ يُمَوِّنُهُ وَيَلِي عَلَيْهِ لِأَنَّهَا تُضَافُ إلَيْهِ يُقَالُ زَكَاةُ الرَّأْسِ ، وَهِيَ أَمَارَةُ السَّبَبِيَّةِ ، وَالْإِضَافَةُ إلَى الْفِطْرِ بِاعْتِبَارِ أَنَّهُ وَقْتُهُ ، وَلِهَذَا تَتَعَدَّدُ بِتَعَدُّدِ الرَّأْسِ مَعَ اتِّحَادِ الْيَوْمِ.
কেননা সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো, সে সব ব্যক্তি যার সে ভরন- পোষণ ও প্রতিপালন করে। কেননা সদকা ব্যক্তির সাথে সম্পর্কিত হলো সবব বা কারণ হওয়ার আলামত। তবে ফিতরের দিনের দিকে সম্বন্ধ করা হয এই হিসেবে যে, তা হলো সদকাতুল ফিতরের সময়। এ কারণেই দিন একটি হওয়ার সত্ত্বেও ব্যক্তি ভিন্ন হওয়ার কারণে ফিতর ভিন্ন হয়ে থাকে।
মূল কথা হচ্ছে সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার কারণ হচ্ছে ব্যক্তি সত্ত্বা, যার ভরণ- পোষণ ও প্রতিপালন করা ওয়াজিব। সে কারণে সদকা হওয়ার মূল কারণ হলো তার নিজ সত্ত্বা। কেননা সে নিজ সত্ত্বার ভরণ- পোষণ ও প্রতিপালন করে। আয় তার সাথে যুক্ত তারা, যারা ভরণ- পোষন প্রদানের ক্ষেত্রে তার সম পর্যায়ের মধ্যে গণ্য হয়।
যেমন: তার অপ্রাপ্ত রয়স্ক সন্তান, গোলাম এবং প্রাপ্ত বয়স্ক পাগল সন্তান ইত্যাদি। কেননা এদের ক্ষেত্রেই ভরণ- পোষণ ও প্রাতপালন বিদ্যমান।
ইমাম কুদুরি বলেন,
ويخرج عن أولاد الصغار ومما ليكم.
আর নিজের অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান এ গোলামদের পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর আদায় করা ফরয।
তরে শর্ত হচ্ছে অপ্রাপ্ত বয়স্ক নিজস্ব মাল নিসাব পরিমাণ না হওয়া। এবয় গোলাম খেদমতের জন্য হওয়া। সুতরাং যদি অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানের নিজস্ব সম্পদ থাকে তাহলে ইমাম আবু হানিফা ও আবু ইউসুফ রহ. এর মতে সন্তানের নিজস্ব সম্পদ থেকে আদায় করতে হবে। কেননা তার ভরণ- পোষণ ও তার সম্পদ থেকে আদায় করা হবে। তবে ইমাম মুহাম্মদের মতে পিতা তার মাল থেকে আদায় করবে।
হেদায়া গ্রন্থকারে বলেন-
فَإِنْ كَانَ لَهُمْ مَالٌ يُؤَدِّي مِنْ مَالِهِمْ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ رَحِمَهُمَا اللَّهُ تَعَالَى خِلَافًا لِمُحَمَّدٍ رَحِمَهُ اللَّهُ.
আর যদি গোলাম ব্যবসার জন্য হয় তাহলে যাকাত ওয়াজিব হয়, সদকাতুল ফিতর নয়।
অর্থাৎ যদি তাদের মাল থাকে তাহলে ইমাম আবু হানিফা ও আবু ইউসুফের মতে তাদের মাল থেকে ফিতরা আদায় করা হবে। তবে ইমাম মুহাম্মদ দ্বিমত পোষণ করেছেন।
যাকাত মালকে পবিত্র করে এবং ফিতরা বোঝাকে পবিত্র করে।


তথ্যসুত্রঃ
১। সহিহ বুখারি।
২। সহিহ বুখারি, খ. ১, পৃ. ২০৪।
৩। সহিহ বুখারি, খ. ১, পৃ. ২০৫।
৪। আন ইসতিযকায়, খ. ৯, পৃ. ৩৫৪।
৫। আল হিদায়া, খ. ১, পৃ. ১১৩।
৬। মুখতাসাল কুদুরি, পৃ. ৬১।
৭। আল হিদায়া, খ. ১, পৃ. ১১৩, (মাকতাবায়ে শামেলা)।

আরো দেখান

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close